দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে তিনটি দেশ সফরের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে তিনি জাপান ও সৌদি আরব যাবেন দ্বিপক্ষীয় সফরে। আর জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলনে (কপ৩১) অংশ নিতে তিনি যাবেন তুরস্কে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) টোকিও, রিয়াদ ও আঙ্কারায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো এ তথ্য জানায়।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরে জাপান সফর এবং নভেম্বেরে প্রথমে তুরস্ক, এরপর সৌদি আরব সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
টোকিও, রিয়াদ ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপান সফরে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। এরপর নভেম্বরের প্রথম দিকে তুরস্ক, দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফর হওয়ার কথা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন এই তিন সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।
ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সেদেশ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তিন থেকে চার দিনের এই সফর আয়োজনের বিষয়ে সম্প্রতি ঢাকায় দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
আঙ্কারা থেকে একটি কূটনৈতিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, তুরস্কের আনাতোলিয়ায় আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বর কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হবে। এই বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের যুবরাজ ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াদ সফরে যেতে পারেন। সফরটি আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তারেক রহমানের তিন থেকে চার দিনের টোকিও সফর এমন সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।
জাপান সফর
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তারেক রহমানের তিন থেকে চার দিনের টোকিও সফর এমন সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।
২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস টোকিও সফর করেছিলেন। তার সফরে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। পাঁচ বছরে জাপানে এক লাখ বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়ছিল। সফরে দুই দেশ নিজেদের কৌশলগত অংশীদারত্বও পুনর্নিশ্চিত করেছিল।
তখন জাপান জানিয়েছিল, ‘বে অব বেঙ্গল’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নসহ জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে তারা সহযোগিতা জোরদার করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ীদের সম্মেলন আয়োজন ও জনশক্তি রপ্তানির অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রাধান্য পেতে পারে।
তুরস্কের আনাতোলিয়ায় কপ৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ৯ থেকে ২০ নভেম্বর। আর কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের সম্মেলন হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর। এই দুই দিনের জন্য তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তুরস্ক সফর
তুরস্কের আনাতোলিয়ায় কপ৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ৯ থেকে ২০ নভেম্বর। আর কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের সম্মেলন হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর। এই দুই দিনের জন্য তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কূটনৈতিক সূত্রের আভাস, কপ৩১-এ প্রথম দুই দিনের বদলে তৃতীয়–চতুর্থ দিনে শীর্ষ নেতাদের সম্মেলন রাখার বিষয়টিকে রাজনৈতিক মনোযোগ ধরে রাখার একটি কৌশল মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির এক দশকের বেশি সময় পর এখন মূল প্রশ্ন, নতুন লক্ষ্য ঠিক করা নয়। বরং প্রশ্ন, আগে ঘোষিত লক্ষ্য কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, জলবায়ু অর্থায়নসহ ক্ষতিপূরণ তহবিল কতটা কার্যকর হবে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পিত রিয়াদ সফরও তাৎপর্যপূর্ণ।
সৌদি আরব সফর
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পিত রিয়াদ সফরও তাৎপর্যপূর্ণ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ঐতিহ্যগত জনশক্তি রপ্তানির বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব।
গত আগস্টে সৌদির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেজি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া সম্প্রতি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য আগামী পাঁচ বছর একটি রূপান্তরমূলক পর্যায় হতে পারে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গতিশীল বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
বর্তমানে ২৮ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক সৌদি আরবে কর্মরত, যা দেশটিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রমবাজারে পরিণত করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পিত সৌদি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জ্বালানি আমদানি, বিনিয়োগ চুক্তি এবং আঞ্চলিক–আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রশ্নে সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
কেএম